৩০০০ টাকা মাসে—এই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ ঠিক কী? কারা পাবেন, কবে চালু হচ্ছে, বা আদৌ কীভাবে পাবেন, এসব নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ঘুরছে। তার ওপর বারবার খবর বদলাচ্ছে, তাই নিয়ে খানিকটা ধন্দও আছে।
সব কোলাহলের মধ্যে পরিষ্কার কথা হল, নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি মতোই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ আনছে। ইস্তেহারে আর ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের মতোই, এই কার্ডটা ছিল বড় চমক। মমতা সরকারের ‘যুবসাথী’তে যে ১৫০০ টাকা দিত, এখন সেটা বাড়িয়ে করা হচ্ছে মাসে ৩০০০ টাকা।
আর, যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের জন্য নিয়মগুলোও বেশ জলবৎ তরলং। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স ২১ থেকে ৪০-র মধ্যে থাকতে হবে, অন্তত মাধ্যমিক পাশ থাকতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চাই—নিজের নামে আর আধার লিঙ্কড। সঙ্গে, ভোটার আইডি, আধার, জন্মের প্রমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র, একটা পাসপোর্ট ছবি আর মোবাইল নম্বর লাগবেই। সরকারের তরফ থেকে বলেই দেওয়া হয়েছে—ভবিষ্যতে আরও কিছু ডকুমেন্ট লাগতে পারে।
টাকাটা সরাসরি যাবে আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে। কারও যেন সুবিধার অপব্যবহার না হয়, বা কেউ সুযোগ থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য কড়া ভেরিফিকেশন থাকছে।
আবেদন করতে খুব তাড়াতাড়ি চালু হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট সরকারি অনলাইন পোর্টাল। ওখানে গিয়ে নাম-ধাম, ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন করা যাবে। যাঁরা আগে থেকেই অন্য সরকারি ভাতা বা বেকার ভাতা পেতেন, তাঁরাও এই নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য একদম পরিষ্কার—পশ্চিমবঙ্গের তরুণ-তরুণীরা যত দিন না চাকরি পান বা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, ততদিন সরকারের সাপোর্ট থাকবে তাদের পাশে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টই বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটা একদম স্বচ্ছভাবে চলবে। কোনো টেকনিক্যাল গড়মিল বা ভুলভ্রান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যেসব ছেলেমেয়েরা এই প্রকল্পের উপযুক্ত এবং যাদের সত্যি প্রয়োজন, তাদের যেন কেউ বাদ না দেয়, সেটাই আসল উদ্দেশ্য। কাউকে বাদ পড়ে যেতে দেওয়া হবে না, সরকার সেটাই দেখতে চায়।
এখানে কিছু জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। আবেদন করার সময় বৈধ ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, বয়সের প্রমাণ (যেমন বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড), শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিটের কপি, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর সঠিক মোবাইল নম্বর—সব রাখতে হবে হাতে।
রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই ঠিক করেছে, এবার অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে। আগে যারা এই স্কিমের টাকাটা পেতেন তারা তো পাবেনই, এবার নতুনরাও আবেদন করতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা, ১ জুন থেকেই প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা জমা পড়া শুরু হবে। মন্ত্রিসভা এরইমধ্যে এই সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে পাশ করেছে।
সোজা কথা, বাংলার যুবকদের হাতে কিছু জমিয়ে অর্থ পৌঁছনোর জন্য এই কার্ড বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়ে দিয়েছেন, আরও নানা জনধর্মী প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। বাকি তো সময় বলবে—কতটা কাজে আসে এই স্কিম।